হাওরের ফসল রক্ষায় নদী খনন : বাস্তবায়নেই মিলবে স্বস্তি
- আপলোড সময় : ১৯-০৫-২০২৬ ০২:১২:০২ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৯-০৫-২০২৬ ০২:১২:০২ পূর্বাহ্ন
বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর এলাকা দেশের অন্যতম প্রধান বোরো ধান উৎপাদন অঞ্চল। প্রতি বছর এখানকার কৃষকরা প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করে ফসল ঘরে তোলেন। কিন্তু আগাম বন্যা, পাহাড়ি ঢল এবং নদী-খাল ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে সেই ফসল রক্ষা করা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। এমন বাস্তবতায় হাওরাঞ্চলের ১৩টি নদী ড্রেজিংয়ের যে মহাপরিকল্পনা সরকার হাতে নিয়েছে, তা নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী এবং প্রশংসনীয় উদ্যোগ।
এক হাজার ৪২৯ কোটি টাকার এই প্রকল্পের মাধ্যমে সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোণার বিস্তীর্ণ হাওর অঞ্চলে পানি নিষ্কাশন সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নদীগুলোতে পলি ও বালু জমে নাব্যতা কমে যাওয়ায় পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত নামতে পারে না। ফলে অল্প সময়ের ঢলেই হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ ভেঙে হাজার হাজার কৃষকের স্বপ্ন তলিয়ে যায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমরা দেখেছি, কয়েক ঘণ্টার ঢল এবং জলাবদ্ধতায় কোটি কোটি টাকার বোরো ফসল পানিতে ডুবে গেছে। কৃষক হয়েছেন নিঃস্ব, আর দেশের খাদ্য নিরাপত্তাও পড়েছে হুমকির মুখে।
এই বাস্তবতায় নদী ড্রেজিং শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়; এটি কৃষক বাঁচানোর, খাদ্য উৎপাদন টিকিয়ে রাখার এবং হাওরের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার একটি দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রায় এক লাখ ৬৫ হাজার হেক্টর কৃষিজমি আগাম বন্যার ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা পাবে এবং প্রায় ১৫ লাখ টন বোরো ধান রক্ষা করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। এটি দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তবে অতীতের অভিজ্ঞতা আমাদের সতর্ক করে দেয়। হাওরাঞ্চলে বহু প্রকল্প গ্রহণ হলেও বাস্তবায়নের ধীরগতি, দুর্নীতি, অপরিকল্পিত কাজ এবং তদারকির অভাবে প্রত্যাশিত সুফল অনেক সময় পাওয়া যায়নি। নদী খননের মতো প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা না গেলে বিপুল অর্থ ব্যয় করেও কাক্সিক্ষত ফল আসবে না। বিশেষ করে কোথায় কী পরিমাণ খনন হবে, ড্রেজিংয়ের মাটি কোথায় ফেলা হবে, খাল ও ড্রেনেজ আউটলেটগুলো কীভাবে সংযুক্ত করা হবে -এসব বিষয়ে বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে স্থানীয় কৃষক, পানি বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশবিদদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ হাওর একটি স্পর্শকাতর প্রতিবেশ ব্যবস্থা। অপরিকল্পিত ড্রেজিং কিংবা পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে এমন কাজ দীর্ঘমেয়াদে নতুন সংকট তৈরি করতে পারে। তাই উন্নয়ন ও পরিবেশের মধ্যে সমন্বয় বজায় রেখেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে।
আমরা মনে করি, সরকারের এই উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে হাওরাঞ্চলের কৃষকরা দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে অনেকটাই মুক্তি পাবেন। একই সঙ্গে দেশের খাদ্য উৎপাদন ও অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এখন প্রয়োজন দ্রুত, স্বচ্ছ ও কার্যকর বাস্তবায়ন। কারণ হাওরের কৃষক আর কোনো প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব সুরক্ষা দেখতে চান।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদকীয়